আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীরা জনসংযোগ করছেন। বিশেষ করে এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। আওয়ামী লীগের এ সব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দিন রাত সমান তালে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। গোপালপুর পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে এবার প্রথম বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. জিল্লুর রহমান শিহাব। তিনি বর্তমানে গোপালপুর
উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক। এ ছাড়াও তিনি একাধিকবার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি পরিষদের সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে আওয়ামী লীগের স্বক্রীয় সদস্য। তিনি উপজেলার বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি।
তিনি পেশায় শিক্ষকতা করেন। তিনি খন্দকার আসাদুজ্জামান একাডেমী (স্কুল এন্ড কলেজ) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স ইন ইংলিশ এন্ড এডুকেশন। তার পিতার নাম মৃত শামছুলহক। তিনি ৫ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ ছেলে। তিনি বর্তমানে উপজেলার নন্দনপুর গ্রামে বসবাস করছেন। ১৯৭১ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তিনি দুই সন্তানের জনক।সমাজের প্রতিষ্ঠিত পরিবার হিসেবে তাদের পরিচিতি।
নির্বাচনের ব্যাপারে জিল্লুর রহমান শিহাব বলেন,গোপালপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ৪৬ বছর অতিক্রান্ত হলেও পৌরসভার গুনগত মান নিয়ে এই পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। বিগত সময়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা পৌরসভার কোন উন্নয়ন করতে পারেনি। আমি নির্বাচিত হয়ে পৌরসভার গুনগত মান পরিবর্তন করতে চাই। আধুনিক এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করবো। প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি যুগান্তকারি পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করা
হবে। এলাকায় আমার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সে হিসেবে সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের সাথে আমার সুর্স্পক রয়েছে। তিনি বলেন, গোপালপুর পৌরসভার অনেক বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। কোন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেন না। অনেক জায়গায় চোর এবং নেশাগ্রস্তদের আড্ডা খানায় হয়ে গেছে। কেনা কেটার জন্য অনেকেই গোপালপুর শহরে আসতে চায় না। আমি উদ্যোগ নিয়ে এই পৌরসভায় আধুনিক শিল্প কারখানা গড়ে তুলবো। এতে অনেকের কর্মস্থান গড়ে উঠবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান মেয়র পৌরসভার তেমনউন্নয়ন করতে পারেনি। করোনা এবং বন্যার সময় তিনি কোন ত্রাণ নিয়ে মানুষের পাশে দাড়ায়নি। তিনি ব্যক্তি সার্থে পৌরসভায় অনেক অনিয়ম করেছেন। বিগত ৫ বছরে এলাকার কোন উন্নয়ন হয়নি। এলাকার রাস্তাঘাট ্ধসঢ়;এবং ড্রেনেস ব্যবস্থা নাজুক। তিনি আরো বলেন, আমি ইতিমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক জায়গায় উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সহযোগিতা নিয়ে আমি কাজ করেছি। এই কাজ করার কারণেই সাধারণ জনগণ আমাকে চাচ্ছে, কারণ আমার ধারাই এই পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
করোনাকালিন সময়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে ২ হাজার পরিবারকে সহায়তা করেছি। এ ছাড়া বিগত সময়েও অসহায় এবং গরীবদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। আমি আশাবাদি দল এবার আমাকে মনোনয়ন দেবে। আমি নির্বাচিত হলে প্রথমে এলাকার সকল সমস্যাগুলো সমাধান করবো। রাস্তাঘাট উন্নয়ন, যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নত, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সু-চিকিৎসার, উন্নত পয়:নিষ্কাশন ও বজ্য ব্যবস্থাপনা, পৌর শহরে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রæতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেটের সুবিধার আওতায় আনা হবে। ওয়ার্ড ভিত্তিক বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সরবরাহ আরও বাড়ানো ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যে গ্রæপভিত্তিক বায়োগ্যাস প্লান্ট ও পৌরশক্তি প্যানেল বসানোর উৎসাহ ও সহায়তা দেয়া হবে। শিশু থেকে বয়োজেষ্ঠ্য সকলের সুস্থ বিনোদনের জন্য পৌরসভায় একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। শহরে সড়ক দ্বীপ ও নান্দনিক নগর উদ্যান গড়ে তোলা হবে। মশা নিধনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের
নামে বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করা হবে। পৌরসভার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে ও তত্ত¡াবধানে শহরকে সবুজায়ন করা হবে। পৌরসভার কার্যক্রম সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর ও ভিজিটালাইজড করা হবে। যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণসহ দারিদ্র নিমূল, সরকারি ও বেসরকারি বিনোযোগ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। প্রতিটি বিদ্যালয়, কলেজগুলাতে বিজ্ঞান চর্চার জন্য আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। নাগরিক সেবায় হেল্পলাইন চালু করা, প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্রীড়া উন্নয়নের উদ্যাগ নেয়া হবে। বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে নারী ও পুরুষের জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের নির্মাণ করা হবে।